• Reading time:4 mins read

ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন ঘুরছে – কেউ ২০০ টাকা দিয়ে হোস্টিং দিচ্ছে আবার কেউ কেউ ২০০০/৩০০০ থেকে শুরু করে ৭০ হাজার (৭৫% ছাড়) টাকার কথা বলছে। তাহলে প্রশ্ন হতেই পারে, এত দামি জিনিস ২০০ টাকায় আবার দেয় কেমনে! আর অন্যরা এত বেশি দামই কেন চায়??!! হোস্টিং এর প্রকার ভেদে দামের পার্থক্য হতে পারে, তাই বলে এত বেশি পার্থক্য?? চলুন ডোমেইন হোস্টিং সম্পর্কে আরও একটু ধারনা নেয়া যাক। কম দামি হোস্টিং এর রহস্যগুলো জেনে নেয়া যাক।

ডোমেইন কি??

সাধারনত একটি ডোমেইন বা ডোমেন নাম ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা অবস্থানকে বোঝায়। উদাহরণস্বরূপ, ডোমেন নাম “google.com” আইপি ঠিকানা “216.58.216.164” কে নির্দেশ করে। সাধারণত, সংখ্যার একটি দীর্ঘ স্ট্রিংয়ের চেয়ে একটি নাম মনে রাখা সহজ। একটি ডোমেইন নাম সর্বাধিক ৬৩ অক্ষরের এবং সর্বনিম্ন একটি অক্ষরের হতে পারে।

ডোমেইন কেনার সময় কোন কোন বিষয় খেয়াল রাখতে হবে?

  • ডোমেইন এর ফুল কন্ট্রোল আপনার হাতে থাকবে কি না
  • প্রতি বছর রিনিউ করতে কত খরচ হবে জেনে নিবেন
  • আপনি যার কাছ থেকে সার্ভিস নিচ্ছেন সে কোন রেজিস্ট্রি থেকে ডোমেইন বিক্রি করছে
  • অন্য কোন কোম্পানির অফার আপনার কাছে বিক্রি করছে কিনা

হোস্টিং কি?

ওয়েব হোস্টিং এমন একটি পরিষেবা যা ইন্টারনেটে একটি ওয়েবসাইট পোস্ট করার অনুমতি দেয়। একটি ওয়েব হোস্টিং পরিষেবা সরবরাহকারী, এমন একটি ব্যবসা যা ইন্টারনেটে ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং পরিষেবাগুলি সরবরাহ করে। ওয়েবসাইট যেখানে সংরক্ষণ করা হয় বিশেষ কম্পিউটারে। যা সার্ভার নামে পরিচিত।

যখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে চান, তখন তাদের যা করতে হবে তা হ’ল তাদের ব্রাউজারে আপনার ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা ডোমেন টাইপ করা। তারপরে তাদের কম্পিউটারটি আপনার সার্ভারের সাথে সংযুক্ত হবে এবং আপনার ওয়েবপৃষ্ঠাগুলি ব্রাউজারের মাধ্যমে তাদেরকে দেখানো হবে।

হোস্টিং কেনার সময় কোন বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবেন?

  • আপনি যার কাছ থেকে সার্ভিস নিচ্ছেন সে অরিজিনাল লাইসেন্স ব্যবহার করে কিনা
  • প্রতি বছর রিনিউ করতে কত খরচের পার্থক্য কেমন তা জেনে নিবেন
  • আপনার ওয়েবসাইটের কাঙ্ক্ষিত গ্রাহক সংখ্যা কেমন হতে পারে তার উপর ভিত্তি করে হোস্টিং নিবেন
  • ২৪/৭ গ্রাহক সেবা দিচ্ছে কিনা তা অবশ্যই দেখে নিবেন
  • সার্ভার লোকেশন সম্পর্কে জেনে নিবেন
  • ব্যাকআপ সিস্টেম কেমন জেনে নিবেন
  • সিকিউরিটি সিস্টেম কি কি ব্যবহার করা হয়েছে জিজ্ঞেস করে নিবেন।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন

কম দামি হোস্টিং এর রহস্য কি?

প্রথমে বিশ্বমানের কিছু হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের খরচ সম্পর্কে জানা যাক। ছবির ক্যাপশনে লিঙ্ক দেয়া আছে, বিস্তারিত নিজেই দেখে নিতে পারবেন। হিসাবটাও করে নিবেন দয়া করে। তাহলেই বোঝতে পারবেন খরচ কেমন হওয়া উচিত।

text and number showing hostinger domain and hosting price list
Hostinger এর প্রাইস লিস্ট – মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন
text showing domain and hosting bluehost price list
Bluehost এর প্রাইস লিস্ট – মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করুন

তাহলে, এবার জেনে নেয়া যাক, কম দামে হোস্টিং প্রদান করার পেছনের রহস্য কি?

একটা প্রবাদ আছে – যত গুড় তত মিঠা । আপনি কম খরচে যখন হোস্টিং নিচ্ছেন, তখন তো আর প্রভাইডার আপনাকে নিজের পকেট থেকে খরচ করে আন্তর্জাতিক মানের হোস্টিং দিবে না। তাহলে, কীভাবে দিবে? চলুন জেনে নেই –

ক) ক্র্যাক লাইসেন্স

যারা হোস্টিং সেবা প্রদান করে তাদের একটা বড় অংকের টাকা খরচ হয় বিভিন্ন সিকিউরিটি সফটওয়্যার ও মডিউল এর পেছনে। যেমন –  WHMCS License, WHM/cPanel License, Cloud Linux, Litespeed ইত্যাদি।  যদি আপনি ঠিক মতো যাচাই করেন তাহলে দেখতে পাবেন  কমদামে হোস্টিং প্রদানকারিরা অধিকাংশই ক্রাক লাইসেন্স, নাল থীম ব্যবহার করে থাকে।

যেহেতু তারা লাইসেন্স ক্রয় করছে না তাই তাদের প্রায় অর্ধেক খরচ কম হচ্ছে। আর যার কারণে তারা কম দামে হোস্টিং দিতে পারছে। কিন্তু আপনাকে বা আপনার অনলাইন ব্যাবসাকে অনিরাপদ অবস্থায় রাখা হচ্ছে। আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এটাই মূল কথা।

খ) বাজে কাস্টমার সাপোর্ট

আপনি কখন কোন সমস্যায় পড়বেন তা আপনিও জানেন না। তাই হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ২৪/৭ গ্রাহক সেবা প্রদানের ক্ষমতা থাকতে হবে। যদি ইনস্ট্যান্ট সাপোর্ট না পাওয়া যায় তাহলে গ্রাহকের জন্য সেটা বড় সমস্যা হয়ে যেতে পারে। সাইট ডাউন হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে অনেক ছোট বড় সমস্যা হতে পারে। ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দিতে হলে অতিরিক্ত লোকের প্রয়োজন। কিন্তু বাজে কাস্টমার সাপোর্ট দিতে তো আর অতিরিক্ত লোক লাগে না। তাই খরচও কম!

গ) অতিরিক্ত লাভের আশায়

ভালো কোন হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান একটি সার্ভার রিসোর্স দশ ভাগে ভাগ করে ১০ জনের কাছে বিক্রি করছে, যেটা স্বাভাবিক। কিন্তু কমদামি হোস্টিং সেবা প্রদানকারীরা একই রিসোর্স ৩০-৪০ জনের কাছে বিক্রি করছে। কমদামি হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এটাই করে থাকে, কেননা তাঁদের সার্ভার কস্ট তুলতে হয় এবং ব্যবসাও করতে । ফলে আপনার ওয়েবসাইট স্পিড স্লো হবে। সাইট স্পিড স্লো হওয়ার কারনে এসইও করেও কোন লাভ হবে না।

কমদামি হোস্টিং যেসব কারনে ব্যবহার করবেন না

আপনার ওয়েবসাইট আপনার স্বপ্ন। অনলাইনে আপনি ব্যবসা করবেন বা কোন সেবা প্রদান করবেন, আর সে প্রতিষ্ঠানের তালা চাবি যদি থাকে অন্যের হাতে, তাহলে বুঝতেই পারছেন আপনার অনলাইন স্বপ্নের কী অবস্থা হবে! সামান্য কয়েক হাজার টাকা বাঁচানোর জন্য নিশ্চয়ই আপনি আপনার ব্যাবসাকে ঝুকিতে ফেলবেন না।

বুলেট পয়েন্টে কমদামি হোস্টিং এর নেতিবাচক দিকগুলো তোলে ধরছি, যাতে সহজে মনে  রাখতে পারেন –

  • হ্যাক হবার সম্ভবণা – স্বপ্নের সমাপ্তি  
  • ক্র্যাক লাইসেন্স – অনিরাপদ ওয়েবসাইট
  • নো এসইও রেজাল্ট – অর্গানিক ট্র্যাফিক পাবেন না
  • বাজে কাস্টমার সাপোর্ট – দরকারের সময় পাবেন না
  • স্লো ওয়েবসাইট – গ্রাহক বিরক্তি
  • গায়েব হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা – দিশেহারা অবস্থা  

আশাহত হবেন না! আপনে যদি শখের বশে একটি ওয়েবসাইট করতে চান, বা শেখার জন্য হোস্টিং খুঁজে থাকেন এবং বাজেট যদি খুবই কম হয়ে থাকে, তাহলে আপনি কম দামি হোস্টিং নিতেই পারেন। এছাড়া আপনার ওয়েবসাইট যদি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে, অবশ্যই কমদামি হোস্টিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে যাবেন। কারন, সস্তার তিন অবস্থা।

আরও পড়তে পারেন –

domain-o-hosting illustration

ই কমার্স ওয়েবসাইট বানাতে চান?

Leave a Reply